মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং
অর্ধযুগ পর ফের আগুনসন্ত্রাস

পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র

পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র

অর্ধযুগ পর ঢাকায় সিরিজ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানীবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একইদিনে ১২টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা হতবাক করেছে সবাইকে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের জ্বালাও-পোড়াও ভুলে মানুষ যখন স্বাভাবিক হয়েছে তখন এ ধরনের ঘটনায় নতুন করে অশান্ত পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা মনে করছেন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শান্ত রাজধানীকে অশান্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন বলেও জানান তারা।

বাস পোড়ানোর ঘটনায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি একে অপরকে দুষলেও সামগ্রিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এ জন্য সময় থাকতেই গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের পরামর্শ তাদের।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর পৃথক স্থানে সর্বমোট ১২টি বাসে আগুন দেয়া হয়। এসব ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা হয়। মামলায় আসামি অর্ধসহস্রাধিক। রোববার পর্যন্ত মোট ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন।

এদের মধ্যে ৩৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়। মামলার আসামিদের অধিকাংশই বিএনপির নেতাকর্মী। একাধিক মামলার পর এদের বেশিরভাগই এখন গা ঢাকা দিয়েছে। অনেকের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকার পরও তাদের আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিন ঢাকার বাইরে এবং করোনার কারণে আইসোলেশনে থেকেও আসামি হয়েছেন-এমন অভিযোগও আছে।

জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে যা কিছুই হয় তার সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিছুটা থাকেই। এই ১২টা বাস জ্বালানোর উদ্দেশ্যটা কী? যার নামেই হোক, যে কোনো রাজনৈতিক দলই হোক-উদ্দেশ্য (বাস পোড়ানোর) এই নির্বাচন (ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন) সেটা আমি মনে করি না। কারণ, তাহলে ১২টা বাস জ্বালানোর পর তো আরও কিছু হতে পারত। পুলিশ মাঠে আছে, অনুসন্ধান করছে, তারা আরও ভালো বলতে পারবে। তবে আমি মনে করি, এ বিষয়ে আরও ডিপে (গভীর) দেখা উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এবিএম নাজমুস সাকিব যুগান্তরকে বলেন, অপরাধ সংঘটনের আগেই প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। সারা দেশে বিশেষত রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে।

পুরো শহরকে সিসিটিভি মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্ত করতে হবে। ‘সিচুয়েশনাল ক্রাইম প্রিভেনশন’-এর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত করতে হবে। যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বলছে দেশকে অস্থিতিশীল করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১২টি বাসে একইদিনে এ হামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. শাহ আবিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পরিকল্পিত এই হামলা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এটা খুবই জঘন্য একটি কাজ হয়েছে। যে বাসগুলোয় আগুন দেয়া হয়েছে সেগুলোয় এক্সপ্লোসিভ (বিস্ফোরক) ব্যবহার হয়েছে। আমরা এসব ঘটনা রোধে সচেষ্ট আছি।

ডিএমপির মুখপাত্র ওয়ালিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এটা নিঃসন্দেহে পরিকল্পিতভাবে করা। আতঙ্ক সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করারও অপচেষ্টা। মামলায় আসামি করা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নামগুলো বিভিন্ন সোর্স থেকে পেয়েই তাদেরকে আসামি করা হয়েছে। তারপরও এগুলো ভেরিফাই করার সুযোগ আছে। যাচাই-বাছাই করার সুযোগ আছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের ব্যাপার আছে। মামলার তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার আগে অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

১৬ মামলায় ৪৭ জন গ্রেফতার : বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ১২টি থানায় ১৬টি মামলা হয়।

থানাগুলো হল : পল্টন, মতিঝিল, বিমানবন্দর, উত্তরা পূর্ব, শাহবাগ, ভাটারা, কলাবাগান, তুরাগ, খিলক্ষেত, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর ও বংশাল। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানা পুলিশ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪৭ জনকে গ্রেফতার করে। এরমধ্যে শাহবাগ থানা ৬ জন, পল্টন থানা ৯ জন, বংশাল থানা ৭ জন, কলাবাগান থানা ২ জন, তুরাগ ১ জন, উত্তরা পূর্ব ৯ জন, খিলক্ষেত ২ জন, সূত্রাপুর ৮ জন, ভাটারা থানা ১ জন ও মতিঝিল থানা ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।

এ ছাড়াও পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখেছে থানা পুলিশের একাধিক টিম। এসব তথ্য জানিয়েছে ডিএমপির উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে পল্টন থানাধীন বিএনপির পার্টি অফিসের উত্তর পাশে কর অঞ্চল-১৫-তে পার্কিং করা সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২টি বাসে আগুন দেয়া হয়।

 

শেয়ার করুন:Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email

মন্তব্য করুন

মন্তব্য