সোমবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং
হোয়াইট হাউসের সামনে সংঘর্ষে আহত ১০, আটক ২০ * মন্ত্রিসভা গঠনে ব্যস্ত বাইডেন

সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন ট্রাম্প

সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে নিজের পরাজয় কোনোভাবেই মানতে পারছেন না। ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন।

ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে কারচুপি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে- ট্রাম্পের এমন ভিত্তিহীন অভিযোগে বিশ্বাসী তার উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী ‘প্রাউড বয়েজ’ শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ করেছে। হোয়াইট হাউসের কাছে উগ্র সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে জো বাইডেনের বিজয় উদযাপনকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ২০ জন আহত হন।

এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করেছে। অপরদিকে মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। খবর এপি, সিএনএন ও রয়টার্সের। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সবক’টি রাজ্যের ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনের জয় সুনিশ্চিত হয়েছে।

তিনি ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৩২টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন। কিন্তু পরাজয় স্বীকার না করে ট্রাম্প কারচুপি, অনিয়ম ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে নির্বাচনের পর থেকে দাবি করে আসছেন।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে মামলা করেও তার লাভ হচ্ছে না। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট- উভয় দলের নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি। এরপরও ট্রাম্প গোঁয়ার্তুমি করছেন। তার দাবির প্রতি আস্থা রেখে উগ্র সমর্থক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী গ্রুপ ‘প্রাউড বয়েজ’ দেশব্যাপী সহিংস কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।

ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’র অনুকরণে তারা ‘মিলিয়ন এমএজিএ মার্চ’ শিরোনামে নতুন স্লোগান তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন ডিসির রাজপথে সকাল থেকে লোক জড়ো হতে শুরু করে। তাদের হাতে নির্বাচনে পরাজয় না মানার সমর্থনে প্ল্যাকার্ড ছিল।

ওয়াশিংটনে ১০ লাখ মানুষের বিশাল সমাবেশে ‘স্টপ দ্য স্টিল’, ‘উই আর চ্যাম্পিয়ন’, ‘ফোর মোর ইয়ারস’, ‘বেস্ট প্রেসিডেন্ট এভার’ প্রভৃতি স্লোগান লেখা ব্যানার, ফেস্টুন ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে লোকজনকে দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের কাছে ফ্রিডম প্লাজায় লোকজন প্রথমে জড়ো হন।

এরপর সুপ্রিমকোর্টের আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা তারা প্রদক্ষিণ করেন। হোয়াইট হাউস থেকে গলফ ক্লাবের উদ্দেশে যাওয়ার পথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেখানে কিছুক্ষণের জন্য থামেন। এ সময় ট্রাম্পের সমর্থনে মুহুর্মুহু স্লোগান দেয়া হয়।

বিক্ষোভকারীদের প্রতি হাত নেড়ে তিনি অভিবাদন জানান। সারা দিন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাত গভীর হওয়ার পর ট্রাম্প সমর্থক এবং ট্রাম্প বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দু’পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। একজনকে চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত ১০ জনকে পুলিশ আটক করে। সুপ্রিমকোর্টের সামনে স্লোগানরত ট্রাম্প সমর্থক অ্যান্থনি উইটাকার বলেন, প্রেসিডেন্টকে সমর্থন জানাতে এখানে এসেছি। তার মনোবল যেন অব্যাহত থাকে।

‘ফোর মোর ইয়ারস’ স্লোগানের মধ্যে জর্জিয়া থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান কংগ্রেস উম্যান মারজুরি টেইলার গ্রিনসহ রক্ষণশীল নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন। তারা সবাই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন।

ফক্স নিউজসহ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমকে ‘ফেক’ বলে উল্লেখ করে টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যখন আমাদের বড় সমাবেশ থাকে, তখন তারা দেখায় না।’ এর আগে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেছিলেন, লাখো মানুষ তাদের সমর্থন জানাচ্ছে।

তারা কারচুপি ও দুর্নীতির নির্বাচন মেনে নেবে না। ‘লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। তারা প্রতারণা ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া নির্বাচনের পক্ষে থাকবেন না’- বলে ট্রাম্প টুইট করেন। ‘মেগা মার্চ’ আহ্বান নিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রচারে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিপাবলিকানরা ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসি পুলিশ জানায়, শনিবার বিকাল পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে এবং অন্যদের সহিংস আচরণের জন্য আটক করা হয়।

জো বাইডেনের ব্যস্ত সময় : নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডেলাওয়ারে অবস্থান করছেন। ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে বাইডেন ‘ট্রানজিশন টিমের’ সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।

শনিবার টিমের সঙ্গে বৈঠকের আগে বাইডেন ও তার স্ত্রী বাড়ির পাশের কেইপ হেনলোপেন স্টেট পার্ক এলাকায় সাইকেলে ঘুরে বেড়ান। ভিডিওতে দেখা যায়, মাস্ক ও হেলমেট পরা বাইডেন ও তার স্ত্রী সাইকেল চালাচ্ছেন। তাদের পেছনে অবশ্য সিক্রেট সার্ভিসের একদল সদস্যকেও দেখা যায়।

শেয়ার করুন:Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email

মন্তব্য করুন

মন্তব্য