বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ভাসানচরে অত্যাধুনিক আবাসন সেবায় রোহিঙ্গারা

ভাসানচরে অত্যাধুনিক আবাসন সেবায় রোহিঙ্গারা
ভাসানচরে অত্যাধুনিক আবাসন সেবায় রোহিঙ্গারা

প্রায় ২০ বছর আগে নোয়াখালীর হাতিয়ার অদূরে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা এক চরের নাম ‘ভাসানচর’। এক সময় সেখানে বসবাস করতো ভূমিদস্যু, জলদস্যু ও সন্ত্রাসীরা। কিন্তু সরকারের একটি পদক্ষেপেই পাল্টে গেছে এ চরের দৃশ্য।
মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সরকার হাতে নেয় ভাসনচরের এ প্রকল্পটি। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্বলিত বাসস্থান। আধুনিক ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধারই বন্দোবস্ত রয়েছে এ চরে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) স্ট্যান্ডার্ড মেনেই সেখানে তৈরি হয়েছে পরিকল্পিত ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন ব্যবস্থা। এরই মধ্যে ২২টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সেখানে কাজ শুরু করেছে।

৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় প্রকল্প ‘আশ্রয়ণ-৩’। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে সাময়িকভাবে স্থানান্তরের জন্য প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় হাজার একতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে এখানে। আরো রয়েছে ১২০টি বহুতল ভবন।

ভাসানচরের এ আবাসন ব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে, তা শুধু শরণার্থী আশ্রয়ের ইতিহাসে বিরল নয়, কল্পনাতীতও বটে। এমন সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত জীবন শরণার্থীরা কখনো ভাবতেও পারেননি। প্রথম ধাপে ১ হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কক্সবাজার পালংখালী ক্যাম্প থেকে স্থানান্তর হয়ে আসা রোহিঙ্গা নসিবুল্লাহ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আবাসন ব্যবস্থা আমাদের পছন্দ হয়েছে। আমরা অনেক খুশি। আগের তুলনায় এখানে অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ভালো থাকার আশায় স্বেচ্ছায় ভাসানচরে এসেছি। বাংলাদেশ সরকার এখানে আমাদের যে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে তা দেখে আমরা খুশি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।

ভাসানচর ঘুরে দেখা যায়, বসবাসের জন্য নতুন ঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পেয়ে আনন্দিত স্বেচ্ছায় ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গারা। কক্সবাজারের বদ্ধ জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা শিশুরা উন্মুক্ত পরিবেশ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা।

জাহাজ থেকে নেমেই তাদের অনেকেই খেলায় মেতে ওঠে। চারদিকে খোলা জায়গা, নির্মল বাতাস, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, ব্রিটিশ কোম্পানির ডিজাইনে পাকা ঘর, উন্নত স্যানিটেশন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশসম্মত রান্নাঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাসপাতাল, বাজার এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রসহ কী নেই এখানে। আছে এতিমখানা, ডে-কেয়ার সেন্টার এবং সুপারশপের জন্য আলাদা ভবন।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারের চেয়ে ১৮টি উন্নত সুবিধা রয়েছে ভাসানচরে। বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের কাছে এসব ছিল রূপকথার গল্পের মতো। কিন্তু ভাসানচরে এখন তা বাস্তব। এ প্রকল্পের ব্যাপারে এতদিন তাদের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, বাস্তব অবস্থা দেখে তা দূর হয়ে গেছে।

ভাসানচর আবাসন প্রকল্পের পরিচালক নৌবাহিনীর কমোডর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পরিকল্পিতভাবে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে নির্মাণ কাঠামো করা হয়েছে। মানসম্মত জীবনধারণের সব আয়োজন রয়েছে এখানে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিতে সব ধরনের ত্রুটি এড়িয়ে কাজটি করার চেষ্টা করেছি।

শেয়ার করুন:Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email

মন্তব্য করুন

মন্তব্য