রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ ইং, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ ইং, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ ইং

বাকি রোহিঙ্গারাও ক্যাম্প ছেড়ে যেতে চায় ভাসানচরে

বাকি রোহিঙ্গারাও ক্যাম্প ছেড়ে যেতে চায় ভাসানচরে
বাকি রোহিঙ্গারাও ক্যাম্প ছেড়ে যেতে চায় ভাসানচরে

ভাসানচরে অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবনে ঠাঁই হলো ১ হাজার ৬০০ রোহিঙ্গার। তা দেখে এখন আরো অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বন্দি জীবন ছেড়ে ভাসানচরে যেতে চাইছে।
অপরাধ প্রবণতা আর ঘনবসতিসহ নানা কারণে ক্যাম্পের জীবন তাদের কাছে বিষিয়ে উঠেছিল। তাই শরণার্থী জীবনের বাকি সময়টা সেখানে কাটাতে চাইছে তারা। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে আগত রোহিঙ্গারা পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেছে।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের আগস্টে দেশের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে। সেসময় তাদেরকে আশ্রয় দেয়া হয় কক্সবাজারের উখিয়ায়। তথন তাদের দরকার ছিল জীবনের নিরাপত্তা ও মাথা গোজার জন্যে একটু ঠাঁই।

বাংলাদেশ তাদের জীবনের নিরাপত্তা দিয়েছে। দিয়েছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আশ্রয়। জোগান দিয়েছে অন্ন। তবে গত চার বছরে নানা কারণেই বিষিয়ে উঠে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প জীবন। তারা নিজেদের মধ্যেই ভালো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অসমর্থ হয়। ফলে খুনোখুনি, ঝগড়া, মারামারি, মাদকের গ্রাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পে। এখানে স্কুল, চিকিৎসার সুব্যবস্থা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। ফলে রোহিঙ্গা শিশুরা নিরক্ষর থেকে যাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে সন্তান জন্মদান ও শিশু মৃত্যুর হার ক্রমাগভাবে বাড়ছে। এমনকি ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসী মদত প্রদান করে শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে গুটি কয়েক রোহিঙ্গা।

এসব অনেক কারণেই রোহিঙ্গাদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে ভাসানচর। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভাসানচরে যেতে যান আরো রোহিঙ্গা। তবে চূড়ান্তভাবে তাদের চাওয়া নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়া। যে ব্যাপারে এখনো মিয়ানমারকে বাধ্য করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

এর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাওয়া, দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা কক্সবাজারকে হুমকি থেকে বাঁচানো। কেননা রোহিঙ্গা ক্যাম্প তৈরির জন্য এরই মধ্যে উজাড় হয়েছে বনাঞ্চল, পাহাড়। যা সেখানকার জলবায়ুর উপর প্রভাব ফেলছে ব্যাপক হারে।

ভাসানচরে রোহিঙ্গারা চলে গেলে একদিকে যেমন এই এলাকা রক্ষা পাবে, অন্যদিকে রোহিঙ্গারাও পাবে বেঁচে থাকার সুস্থ পরিবেশ। স্থানীয় শরণার্থী বিষয়ক কমিশন জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে।

শেয়ার করুন:Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email

মন্তব্য করুন

মন্তব্য