রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ ইং, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ ইং, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ ইং

পুরো পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হচ্ছে আজ, স্বপ্ন ছোঁবে দেশ

পুরো পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হচ্ছে আজ, স্বপ্ন ছোঁবে দেশ
পুরো পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হচ্ছে আজ, স্বপ্ন ছোঁবে দেশ

পুরো পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হবে আজ বৃহস্পতিবার। সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর ‘টু-এফ’ স্প্যানটি বসোনো হবে। এতে দৃশ্যমান হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পুরো পদ্মাসেতু। আর শেষ স্প্যানটি বসলেই স্বপ্ন ছোঁবে বাংলাদেশ।
এরই মধ্যে স্প্যানটি মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে বুধবার দুপুরে রওনা হয়ে বিকেলে নির্ধারিত পিলারের কাছে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের।

তিনি বলেন, এবার সেতুর দুই প্রান্তে জোড়া লাগার পালা। আজ সকালের দিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হবে। আর এতেই দৃশ্যমান হবে পুরো পদ্মাসেতু। ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্যে দিয়ে এক নতুন মাইলফলক রচিত হবে। লেখা হবে নতুন এক ইতিহাস। চ্যালেঞ্জ জয়ের অদম্য স্পৃহাই যে হাতের মুঠোয় সাফল্য এনে দিয়েছে তারও প্রমাণ মিলবে।

৩ বছর ২ মাস ১০ দিনে ৪০ স্প্যান

পদ্মাসেতুতে এ পর্যন্ত মোট ৪০টি স্প্যান বসানো হয়েছে। বাকি আছে মাত্র একটি। এটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্যে দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মাসেতু। সে হিসেবে ৩ বছর ২ মাস ১০ দিনে বসানো হলো সেতুর সবকটি স্প্যান।

প্রথম স্প্যানের প্রায় চার মাস পর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যান বসে। এর দেড় মাস পর ১১ মার্চ জাজিরা প্রান্তে তৃতীয় স্প্যানটি বসানো হয়। দুই মাস পর ১৩ মে বসে চতুর্থ স্প্যান। এরপর এক মাস ১৬ দিনের মাথায় ২৯ জুন পঞ্চম স্প্যানটি বসে। ৬ মাস ২৫ দিনের মাথায় ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি বসে ষষ্ঠ স্প্যান। ২০ ফেব্রুয়ারি জাজিরা প্রান্তে ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর বসে অষ্টম স্প্যান।

একই বছরের ২২ মার্চ বসে নবম স্প্যান এবং মাওয়া প্রান্তে ১০ এপ্রিল বসে দশম স্প্যান। ১৩ দিনের ব্যবধানে জাজিরা প্রান্তে ২৩ এপ্রিল বসে ১১তম স্প্যান। এরপর ৬ মে ১২তম, ২৫ মে ১৩তম, ২৯ জুন ১৪তম, ২২ অক্টোবর ১৫তম, ১৯ নভেম্বর ১৬তম, ২৬ নভেম্বর ১৭তম, ১১ ডিসেম্বর ১৮তম, ১৮ ডিসেম্বর ১৯তম ও ৩১ ডিসেম্বর ২০তম স্প্যান বসে।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ২১তম, ২৩ জানুয়ারি ২২তম, ২ ফেব্রুয়ারি ২৩তম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২৪তম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২৫তম, ১০ মার্চ ২৬তম, ২৮ মার্চ ২৭তম, ১১ এপ্রিল ২৮তম, ৪ মে ২৯তম, ৩০ মে ৩০তম ও ১০ জুন বসে ৩১তম স্প্যান। কিন্তু বন্যার কারণে দীর্ঘ ৪ মাস পর ১১ অক্টোবর বসে ৩২তম স্প্যান।

এরপর ১৯ অক্টোবর ৩৩তম, ২৫ অক্টোবর ৩৪তম, ৩১ অক্টোবর ৩৫তম, ৬ নভেম্বর ৩৬তম, ১২ নভেম্বর ৩৭তম, ২১ নভেম্বর ৩৮তম, ২৭ নভেম্বর ৩৯তম ও ৪ ডিসেম্বর ৪০তম স্প্যান বসানো হয়।

পদ্মাসেতুর অগ্রগতি সাড়ে ৮২ শতাংশের বেশি

পদ্মাসেতুর সার্বিক অগ্রগতি সাড়ে ৮২ শতাংশের বেশি। মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯১ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৮৮.৩৮ শতাংশ। মূল সেতুর কাজের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ১৩৩.৩৯ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৭২৩ দশমিক ৬৩ কোট টাকা।

নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৫.৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬৫.১৭ শতাংশ। নদীশাসন কাজের চুক্তি মূল্য ৮ হাজার ৭০৭.৮১ কোটি টাকা এবং এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৬৭৪.৪৮ কোটি টাকা। সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার কাজের অগ্রগতি শতভাগ।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে স্বপ্নের এ পদ্মাসেতু।

শেয়ার করুন:Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email

মন্তব্য করুন

মন্তব্য